পাখির অভয়ারণ্য নওগাঁর হাসানপুর গ্রাম

প্রকাশঃ জানুয়ারি ২৭, ২০১৫ সময়ঃ ১:০৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিক্ষণ ডটকম

Mohadevpur-Picture_06-10-2013প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পাখি । সৌন্দর্যের প্রতীক পাখি। তাই পাখি রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। পাখি রক্ষার এই উদ্যোগে শামিল হয়েছে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার হাসানপুর গ্রামবাসীও ।

তাদের উদ্যোগে গ্রামটি হয়ে উঠেছে নানা জাতের পাখির অভয়াশ্রম। গ্রামটি এখন পাখিগ্রাম নামে পরিচিত। গ্রামে ঢুকতেই দেখা মেলে পাখি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা রকম সাইনবোর্ড । পাখিদের এই অভয়াশ্রম দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই আসছেন নানা বয়সী দর্শনার্থীরা।

শুরুটা ২০০৬ সালের দিকে। এখানে আসতে থাকে নানা প্রজাতির পাখি। তখন গ্রামের লোকজন সিদ্ধান্ত নেন, পাখিগুলোকে নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে দেবেন তারা। দিনের পর দিন তাদের সহযোগিতা পেয়ে একে একে আসতে থাকে এবং স্থায়ীভাবে আশ্রয় নিতে শুরু করে বক, বালিহাঁস, সামুকখৈর, পানকৌরী, রাতচোরা, ঘুঘুসহ নানা জাতের পাখি।

পাখিগুলোকে গ্রামবাসী আলাদা করে কিছু খেতে না দিলেও গ্রামের পুকুর ও আশপাশের ডোবানালা থেকে মাছসহ নানা পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করে পাখিগুলো।

এ বিষয়ে কথা হলে ওই গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, পাখিদের আমরা কখনো বিরক্ত করি না এবং আমাদের সাধ্যমতো পাখিদের আবাসস্থল গড়ে দেই। পাখির বসবাস আর উড়ে চলা দেখতে প্রতিদিনি ভিড় করে নানা বয়সী দর্শনার্থী। তবে দর্শনার্থী বেশী হলে পাখিরা স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করতে পারে না ।

অন্যদিকে, এই গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইউনুছার রহমান হেবজুল  বলেন, পাখিদের আবাসস্থল গড়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুনভাবে গ্রামের চারদিকে বৃক্ষ রোপণ করা হচ্ছে, যাতে আরও বেশী পাখি আসতে পারে। ইতোমধ্যেই পাখি শিকার বা ভয়ভীতি দেখানো বন্ধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে আরও ব্যাপকভাবে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং এই পাখিগ্রাম শুধু নওগাঁ জেলার নয়, পুরো বাংলাদেশের পাখিপ্রেমিকদের কাছে মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে উঠবে।

পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় অান্তরিক স্থানীয় প্রশাসনও। ভবিষ্যতে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুর রশিদ। তিনি বলেন, পাখিগ্রামে হরেক রকম পাখি দেখে সত্যিই মন জুড়ায়। গ্রামবাসী স্ব-উদ্যোগেই পাখিদের অভয়াশ্রম গড়ে তোলায় প্রতিবছর নতুন-নতুন পাখি এখানে আসছে । এখন পর্যন্ত আমরা সেখানে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করতে না পারলেও উপজেলা ও জেলা প্রশাসন পাখি গ্রামের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। যে কোনো সময় কোনো প্রকার সহযোগিতার সুযোগ আসলে তা অবশ্যই করা হবে।

গ্রামবাসী কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়, শুধুই ভালবাসা থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছে। পাখিদের প্রতি তাদের এই ভালবাসা সত্যিই মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের।

নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিমু ও তার বন্ধুরা দলবেঁধে এসেছিলেন পাখি দেখতে। সুমাইয়া বলেন, আমরা খুবই ভাগ্যবান যে, এখানে এ রকম একটি পাখিগ্রাম গড়ে উঠেছে। আমাদের বাড়ি থেকে এটি বেশী দূর নয় বলে আমরা এখানে মাঝে মাঝেই আসি।

 

প্রতিক্ষণ/এডি/আকিদুল ইসলাম

 

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

April 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
20G